Pages

Tuesday, October 21, 2025

অবৈধ ভোটার কারা?

*অবৈধ-ভোটার কারা?* ভোটের-ভূতে পাওয়া প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছে একজন ভোটার তো সাক্ষাৎ ‘ওপরওয়ালা’। তাহলে, তাঁদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলবে কেন? বিজেপির ঘোষিত কর্মসূচি “অনুপ্রবেশকারী”দের চিহ্নিত ক’রে 'নির্বাসনে' পাঠানো। তৃণমূল বৈধ ভোটারদের সুরক্ষা দিতে কোনো কসুর করতে রাজি নয়। কংগ্রেস তো ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য গৃহীত প্রক্রিয়ারই সম্পূর্ণ সংস্কার চাইছে। সিপিএমও তাদের মনোবাঞ্ছা প্রকাশ করেছে। এদের আবার অভিযোগ রয়েছে এই বলে যে, বিজেপি চায় প্রকৃত ভোটারদের বাদ দিতে; আর তৃনমূল চায় অস্তিত্বহীন ভোটারদের ধরে রাখতে। কোনো একটি নির্বাচন কেন্দ্রের অস্তিত্বহীন ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং নাম নতুন ক’রে নাম তোলা— এটাতো একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। প্রত্যেকটি নির্বাচনের আগে এ কাজটি করার জন্য দেশে আলাদা ক’রে দপ্তর রয়েছে, বারো মাস তাঁরা এই কাজটি করেন। তবে ভোটার তালিকা ঠিক করা নিয়ে এত কিছু কেন? প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের এত মাথাব্যথার কারণ কি? ~~ভোটার তালিকায় কোনো রাজ্যের ক্ষমতাসীন শাসকদলের তৈরি করা “অস্তিত্বহীন” ভোটারের উপস্থিতি?--- ভূতুড়ে ভোটার? এইটুকু হলে কথা এখানেই ফুরিয়ে যেতো। নির্বাচন কমিশন অস্তিত্বহীন/ভূতুড়ে ভোটারদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কাজ সেরে ফেলত। কিন্তু, কথাটা এখানেই শেষ নয়, অস্তিত্বহীন/ভূতুড়ে ভোটারদের থেকে বেশি ক’রে সামনের সারিতে চলে আসছে “অবৈধ” ভোটারের বিষয়টি। দীর্ঘ সময় ধ’রে, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা মোতাবেক “অবৈধ” ভোটারের একটি শক্তিশালী “ন্যারেটিভ” তৈরি করা হয়েছে। বিজেপি যাকে “চ্যাম্পিয়ন” করেছে “অনুপ্রবেশকারী” পরিভাষায়। এবং, তারই সমার্থক শব্দবন্ধ হল “ঘুসপেটিয়া/উইপোকা” থেকে বাংলাদেশি “অবৈধ মুসলমান” এবং মায়ানমারের “অবৈধ রোহিঙ্গা” ! অবৈধ ভোটারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে কারোর আপত্তি থাকার কথা নয়। দেশে একজনও অবৈধ-অনুপ্রবেশকারী থাকতে পারে না। কিন্তু, গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে পূর্ব বঙ্গ থেকে আসা কয়েক কোটি মানুষের মনে। যদিও এঁরা মুসলমান নন, তবুও দুই হাজার তিনের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এঁদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর তকমা লাগিয়ে দিয়েছিল, সে কথা মিথ্যা নয়। আর নতুন নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন: সিএএ দুই হাজার উনিশও যে এঁদের বৈধ নাগরিক করতে পেরেছে তাও নয়, এখনও পর্যন্ত সামান্য কয়েকজন হিন্দু উদ্বাস্তু এর সুবিধা নিতে পেরেছেন। তাছাড়া, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য। কয়েক দিন আগে তিনি হুমকি দিয়ে বলেছেন, “অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে 'নির্বাসনে' পাঠানো হবে”। এখানে তিনি অনুপ্রবেশকারীদের দেশ এবং ধর্মের কোনো উল্লেখ করেননি। আর বাস্তব তথ্য কি বলে? পূর্ব বঙ্গ থেকে সবথেকে বেশি কারা এসেছে? হিন্দুরা না মুসলমানেরা? সাধারণ কান্ডজ্ঞান কি বলে? পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা পর্যন্ত বলেছেন পশ্চিমবঙ্গে নাকি এক কোটি কুড়ি লক্ষ রোহিঙ্গা রয়েছে!! বিজেপির আইটি সেল এবং হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটি সাধারণ মানুষের মাথায় ঢুকিয়েছে যে, সারা দেশে পাঁচ থেকে ছয় কোটি অবৈধ বাংলাদেশি মুসলমান এবং রোহিঙ্গা রয়েছে!! এখন প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, “অবৈধ ভোটার” বলতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কাদের বোঝাতে চাইছে? পরিষ্কার ভাষায় তার সংজ্ঞা রাখা হোক। সহজ, সরল ক’রে ব্যাখ্যা রাখা হোক, যাতে দেশভাগ এবং বাংলাভাগের শিকার কয়েক কোটি ছিন্নমূল সাধারণ মানুষের চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা দূর হতে পারে।

No comments:

Post a Comment